পবিত্র কুরআন শরীফে ১২ জন নির্দিষ্ট অংশীদারের (যাবিল ফুরুজ) অংশ নির্ধারণ করে দেওয়া আছে। এদের মধ্যে ৪ জন পুরুষ এবং ৮ জন নারী। নিচে তাদের নির্ধারিত অংশের বিস্তারিত টেবিল দেওয়া হলো:
পুরুষ অংশীদারগণ (৪ জন)
| অংশীদার |
নির্ধারিত অংশ |
প্রাপ্তির শর্তসমূহ |
| ১. স্বামী |
১/৪ অংশ |
মৃত স্ত্রীর যদি কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান জীবিত থাকে। |
| ১/২ অংশ |
মৃত স্ত্রীর যদি কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান না থাকে। |
| ২. পিতা |
১/৬ অংশ |
মৃত ব্যক্তির পুত্র বা পুত্রের পুত্র থাকলে। |
| ১/৬ + অবশিষ্ট (আসাবা) |
মৃত ব্যক্তির শুধুমাত্র কন্যা বা পুত্রের কন্যা থাকলে (পুত্র না থাকলে)। |
| সম্পূর্ণ অবশিষ্ট (আসাবা) |
মৃত ব্যক্তির কোনো সন্তান বা অধস্তন বংশধর না থাকলে। |
| ৩. দাদা |
১/৬ অংশ |
সন্তান বা পুত্রের সন্তান থাকলে (তবে পিতা জীবিত থাকলে দাদা বঞ্চিত হবেন)। |
| ১/৬ + অবশিষ্ট (আসাবা) |
শুধুমাত্র কন্যা বা পুত্রের কন্যা থাকলে। |
| সম্পূর্ণ অবশিষ্ট (আসাবা) |
কোনো সন্তান না থাকলে। (পিতা থাকলে দাদা সর্বদা বঞ্চিত হন)। |
| ৪. বৈপিত্রেয় ভাই |
১/৬ অংশ |
শুধুমাত্র একজন ভাই থাকলে (সন্তান বা পিতা/দাদা না থাকলে)। |
| ১/৩ অংশ |
একাধিক ভাই/বোন থাকলে তারা সমহারে বন্টন করে নিবে। |
নারী অংশীদারগণ (৮ জন)
| অংশীদার |
নির্ধারিত অংশ |
প্রাপ্তির শর্তসমূহ |
| ১. স্ত্রী |
১/৮ অংশ |
মৃত স্বামীর সন্তান বা পুত্রের সন্তান থাকলে। (একাধিক স্ত্রী থাকলে সমহারে বন্টন)। |
| ১/৪ অংশ |
মৃত স্বামীর কোনো সন্তান বা অধস্তন বংশধর না থাকলে। |
| ২. কন্যা |
১/২ অংশ |
শুধুমাত্র একজন কন্যা থাকলে এবং কোনো পুত্র না থাকলে। |
| ২/৩ অংশ |
একাধিক কন্যা থাকলে এবং কোনো পুত্র না থাকলে। |
| আসাবা (২:১) |
পুত্র জীবিত থাকলে কন্যারা পুত্রের অর্ধেক (২:১) হারে অংশ পাবে। |
| ৩. মাতা |
১/৬ অংশ |
মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকলে অথবা দুই বা ততোধিক ভাই-বোন থাকলে। |
| ১/৩ অংশ |
সন্তান না থাকলে এবং ভাই-বোন একজনের বেশি না থাকলে। |
| ১/৩ (উমারিয়্যাত) |
স্বামী/স্ত্রী এবং পিতা থাকলে স্বামী/স্ত্রীর অংশ দেওয়ার পর বাকি সম্পত্তির ১/৩ অংশ। |
| ৪. দাদী / নানী |
১/৬ অংশ |
মাতা জীবিত না থাকলে দাদী বা নানী এই অংশ পাবেন। |
| ৫. আপন বোন |
১/২ অংশ |
একজন বোন থাকলে (সন্তান, পিতা বা আপন ভাই না থাকলে)। |
| ২/৩ অংশ |
একাধিক বোন থাকলে (উপরোক্ত শর্তে)। |
| আসাবা |
আপন ভাই থাকলে (২:১ অনুপাতে) অথবা কন্যা থাকলে অবশিষ্টভোগী হিসেবে। |
| ৬. বৈমাত্রেয় বোন |
১/২ অংশ |
একজন থাকলে (আপন ভাই-বোন, সন্তান বা পিতা না থাকলে)। |
| ২/৩ অংশ |
একাধিক থাকলে (উপরোক্ত শর্তে)। |
| ১/৬ অংশ |
একজন আপন বোন থাকলে (২/৩ অংশ পূরণ করার জন্য)। |
| আসাবা |
বৈমাত্রেয় ভাই থাকলে (২:১ অনুপাতে) অথবা কন্যা থাকলে অবশিষ্টভোগী হিসেবে। |
| ৭. পুত্রের কন্যা |
কন্যার মতোই ১/২ বা ২/৩ পায়। তবে একজন আপন কন্যা থাকলে সে ১/৬ অংশ পায়। পুত্রের পুত্র থাকলে আসাবা হিসেবে অংশ নেয়। |
| ৮. বৈপিত্রেয় বোন |
বৈপিত্রেয় ভাইয়ের মতোই (১ জন হলে ১/৬, একাধিক হলে ১/৩ সমহারে)। |
আসাবা (অবশিষ্টভোগী) এর নিয়মাবলী
যাবিল ফুরুজদের নির্দিষ্ট অংশ দেওয়ার পর সম্পত্তির যে অংশটুকু অবশিষ্ট থাکে, তা আসাবাগণ লাভ করেন। আসাবাদের প্রধান ৪টি শ্রেণী রয়েছে (ক্রমানুসারে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত):
শ্রেণী ১: মৃত ব্যক্তির অধস্তন পুরুষ
- পুত্র
- কন্যা (পুত্রের সাথে)
- পুত্রের পুত্র, পুত্রের কন্যা ইত্যাদি।
শ্রেণী ২: মৃত ব্যক্তির ঊর্ধ্বতন পুরুষ
শ্রেণী ৩: পিতার অধস্তন পুরুষ
- আপন ভাই, আপন বোন
- সৎ ভাই/বোন (বৈমাত্রেয়)
- ভাইয়ের পুত্র, সৎ ভাইয়ের পুত্র ইত্যাদি।
শ্রেণী ৪: দাদার অধস্তন পুরুষ
- আপন চাচা
- সৎ চাচা (বৈমাত্রেয়)
- চাচাতো ভাই এবং তাদের পুরুষ বংশধর।
বি.দ্র. শ্রেণী ১ এর কেউ থাকলে শ্রেণী ২, ৩ ও ৪ এর সবাই আসাবা হিসেবে বঞ্চিত হবে। একইভাবে শ্রেণী ২ থাকলে শ্রেণী ৩ ও ৪ বঞ্চিত হবে। একই শ্রেণীতে পুরুষ ও নারী একত্রে থাকলে ২:১ অনুপাতে সম্পত্তি বন্টন হবে।